“ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন”



ডাবলিনের সুইট এন্ড স্পাইস রেস্টুরেন্টে, গত ১৮ই আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৮ ঘটিকায় এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অলক সরকারের পরিচালনায় উক্ত জাতীয় শোক দিবসের সভাপতিত্ব করেন ডাবলিন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জালাল আহমেদ এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সোহেল বলেন, দেশী বিদেশী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা শুধু একজন ব্যক্তি হত্যা-ই ছিল না বরং এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নীতিতে আঘাত হানা হয়।" ডাবলিন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালাল আহমেদ ভুইয়া বলেন, ১৫-ই আগস্টের পর হত্যাকারীরা কোনো প্রকার বাধা বিপত্তি ছাড়াই দেশে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে রাজকীয় জীবন যাপন করেন এর এইসব কিছুর মদত দেন স্বৈরাচারী সামরিক শাসক জিয়া। আর চূড়ান্ত পর্বে এর বেনেফিসিয়ারী জিয়াই ছিলেন।"

আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান বলেন ," বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র অনেক আগে থেকেই হচ্ছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর লোক-ও বঙ্গবন্ধুকে এই ধরনের কিছু একটা যে ঘটতে যাচ্ছে সেই সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা কানে তুলেন নি। কারণ যেখানে পাকিস্থানিরাই তাকে কিছু করেনি সেখানে বাংলাদেশীরা তাকে কিছু করবে তা ছিল তার চিন্তার বাইরে।“ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন ,"বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেও তার নীতি ও আদর্শকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। তিনি এখন সকল বাঙালির মনে প্রাণে আছেন এবং থাকবেন।“ ডাবলিন আওয়ামীলীগের কর্মী মশিউর রহমান বোরহান তার বক্তৃতায় বলেন ," আমেরিকার কারসাজিতে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বাংলাদেশের জন্য ত্রান বাহী জাহাজ আমেরিকা আটকে দেয় কিউবা-র ফিদেল কাস্রোর কাছে পাট রপ্তানি করার জন্য।"

ডাবলিন আওয়ামীলীগের কর্মী সামির ভাই বক্তৃতা প্রদান কালে বলেন "৭০ এর দশকে সারা বিশ্বই অস্থিতিশীল ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের ওই সময়কালে রাশিয়া ও আমেরিকার কর্তৃত্বের দ্বন্দে সারা বিশ্ব-ই অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু সরকারের উচ্ছেদের পেছনে তিনি ওই সময়কার স্নায়ু যুদ্ধের সংযোগ স্থাপন করেন। আমেরিকার সাথে কোনো প্রকার তাবেদার সরকার গঠন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫-ই আগস্ট চূড়ান্ত আঘাত হানে।"

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতির জনকের বর্ণাঢ্য জীবন, রাজনৈতিক আদর্শ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ ও বর্ণনা করেন এবং শোকাবহ রক্তক্ষরা ১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকান্ডের দিন মিথ্যা জন্মদিন পালন করায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।

এছাড়ও বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবী করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানরে খুনীদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে অবিলম্বে ফাঁসি দিয়ে খুনের রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন বৃত্তান্ত, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযোদ্ধ ও স্বাধীনতা উত্তর দেশকে সোনার বাংলা গড়ে তোলা ও ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকান্ড বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাবলিন আওয়ামীলীগের প্রবীর সরকার, তপু শাহাদাত, এম আর নয়ন , হেলাল, অ্যান্ড্রু, মৃদুল পাল সহ আরো অনেক নেতা কর্মী। বক্তব্য অনুষ্ঠান শেষে সান্ধ্য ভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।