“আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের মহান বিজয় দিবস পালন”



এক আনন্দঘন পরিবেশে গত ১৬-ই ডিসেম্বর আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের বিজয়দিবস ২০১৫ পালিত হয়েছে। ডাবলিন আওয়ামীলীগের আহবায়ক ফিরোজ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব ইকবাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও বিশেষ অতিথি জসিম উদ্দিন আহমেদ ও আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের প্রধান উপদেষ্টা ও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান। সভায় উপস্থাপনা করেন আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অলক সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী শহীদ আত্মাদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অলক সরকার , তিনি বলেন বিজয় দিবসের চেতনা শুধু বিজয় দিবসের দিনেই রাখলে চলবে না তা সারা বছর ব্যাপী রাখতে হবে তাহলেই সকল প্রকার হীন মন মানসিকতা ,জামায়েতিদের উগ্রপন্থা প্রতিরোধ করা সহজ হবে। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের মানুষ আশ্বস্ত হচ্ছে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। বাংলাদেশ অভিশাপ মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে উন্নতি করছে, সামনে দেশ আরো এগিয়ে যাবে এবং বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়াবে।
জনাব সাইদুর রহমান বলেন,টিভি মিডিয়া সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেখছি স্মৃতিসৌধে জনমানুষের ঠল নেমেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষ আজ উজ্জীবিত। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক আগের তার হারানো পথ খুঁজে পেয়েছে। মানুষকে সত্য থেকে খুবই সাময়িক সময়ের জন্য বিভ্রান্ত করা যায় কিন্তু মানুষ ঠিকই একদিন না একদিন সত্যকে খুঁজে পায়। ৭৫ সালের পর বাংলাদেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করা হয়েছে। সাইদুর সাহেবের বক্তব্যকে সমর্থন করে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা জনাব মাহফুজ বক্তব্য রাখেন যে দেশের নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই ইতিহাস জানতে হবে,সঠিক ইতিহাস জানার কোনো বিকল্প নাই আর ইতিহাস বিকৃতিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।সেই সাথে আমাদের এরকম একটি আইনের প্রয়োজন যেখানে আমাদের দেশের ইতিহাস বিকৃতির জন্য দুস্কৃতিকারীরা শাস্তির সম্মুখীন হবে।

বিশেষ অতিথিতির বক্তব্যে জনাব ইকবাল আহমেদ বলেন “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিচার হীনতার প্রক্রিয়া থেকে বের করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আজ বিশ্বের রোল মডেলে পরিনত করেছে। সেদিন বেশি খুব দূরে নয় যখন আমরা দেখব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে মানবতাবিরোধী বিচারের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে দেখবে।” জসিম উদ্দিন বলেন আমাদের প্রজন্মের কেউই হয়ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা এবং তাদের শাস্তির কথা ভাবেননি কিন্তু অসীম সাহসী আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই দুস্কৃতিকারীদের শাস্তি দিতে বদ্ধ পরিকর। মুক্তিযুদ্ধের সময় লুটকৃত ওই সব সম্পত্তির বাজেয়াপ্ত করতে হবে নতুবা তারা দেশের ভেতর বিভিন্ন নাশকতায় অর্থায়ন করবে।

ডাবলিন আওয়ামীলীগের শামসুল হক বলেন বাংলাদেশে পাকিস্থানি দুতাবাস অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।এই দুতাবাস থেকে এখন দেশের ভেতর নাশকতা পরিচালনা করার জন্য অর্থায়ন করছে। ডাবলিন আওয়ামীলীগের কর্মী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ফিরোজ হোসেন ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশকে গড়ে তোলার আহবান জানানোর পাশাপাশি পাকিস্থানকে মিথ্যাবাদীদের দেশ আখ্যা দিয়ে বলেন, পাকিস্থানীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।আয়ারল্যান্ডে পাকিস্থানী দুতাবাস ঘেরাওয়ের ব্যাপারে কর্মসূচী আমাদের নেওয়া উচিত।” উপস্থিত সবাই এসময় তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জালাল উদ্দিন আহমেদ,মো:সোহেল, তপু শাহাদাত,সাইদ বিপুল ভাই , সামির ,প্রবীর, হেলাল, স্বপ্নিল, ইসমাইল ,নয়ন ,রবিউল , এন্ড্রু ,আলমগীর ,বোরহান, বাপ্পী সহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের সকল জনগনকে আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয় ও অনুষ্ঠান শেষে বিজয়দিবস উপলক্ষ্যে সবার জন্য প্রীতিভোজের ব্যবস্থা করা হয়।“