header



“আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে মহান “একুশ” কে স্মরণ।”


গত ২১ তারিখে ২১ শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষ্যে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এবং ডাবলিন আওয়ামীলীগ দ্বারা আয়োজিত এক সভা ডাবলিনের “সুইট এন্ড স্পাইস” নামক রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র কোরান তেলোয়াত ও গীতা পাঠের পর জাতীয় সংগীতের প্রতি সন্মান প্রদর্শন ও ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদ দের জন্য এক মিনিট মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন ডাবলিন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সমীর কুমার ধর। তিনি ভাষার জন্য আন্দোলনের আয়ারল্যান্ডের একটি উদাহরণ টেনে বলেন ভাষার জন্য এই দেশটিও আন্দোলন করেছে কিন্তু এখন সর্বত্র-ই ইংলিশ ভাষার চল। আইরিশ ভাষা প্রায় দেশটি থেকে হারিয়ে গেছে।যে কোনো ভাষাই হোক না কেন তিনি সকলকে ভাষার প্রতি যত্নশীল হওয়ার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন কাউন্টি গলওয়ে থেকে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব বেলাল হোসেন ও কাউন্টি কর্ক থেকে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক খান। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের শহীদ দের প্রতি সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি একুশের চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন একমাত্র আওয়ামীলীগ সরকার থাকলেই দেশে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয় অন্যথায় জনমানুষকে অধিকার আদায় করে নিতে হয়। আগামী দিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জামায়েত জোট যেন কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ডাবলিন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবু অলক সরকার বলেন সেই মধ্যযুগের চর্যাপদের আমল থেকে বাংলা ভাষা বা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়ে আসছে। এই বাংলা ভাষা বা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে এই বাংলায় অনেক কবি, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার ,ছড়াকার জন্ম গ্রহণ করেছে। যদি ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে না রাখতে পারতাম তাহলে আজকে বাংলা সাহিত্য নামে কোনো কিছুই থাকতো না। আমরা আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আজকে আমাদের এই সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য হারিয়ে ফেলতাম। তিনি ভাষা শহীদ দের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকেও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন যিনি সর্বপ্রথম পাকিস্থানের প্রাদেশিক সভায় রাষ্ট্রভাষা উর্দুর বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করেন। তিনি আরো বলেন ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধের পটভূমি তৈরী করেছিল এই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাবলিন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সেলিম অরণ্য আউট লুক সহ কিছু পত্রিকার উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেই পাকিস্তানিরা ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য বাঙালীদের উপর গুলি চালিয়েছিল সেই তারাই আজকে চাইনিজ ভাষাকে (মেন্ডারিন ভাষা ) তাদের দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। পাকিস্তানি সিনেট চীনের সাথে সিইপিসি প্রজেক্ট থেকে লাভবান হওয়ার জন্য তারা এটা করেছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডাবলিন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জসিম পাটোয়ারী ১৯৫২ সালের আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই আন্দোলন ছিল আমাদের দেশের আপামর ছাত্র জনতার আন্দোলন। একুশ আমাদের শিখিয়েছে অধিকার আদায় এবং ন্যায্য দাবীর প্রতি অবিচল থাকা। অনুষ্ঠানে আসার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ডাবলিন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রুমন, আয়ারল্যান্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিব্বী ইসলাম, আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সদস্য শামীমুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম। বক্তারা সবাই নিজ নিজ ভাষার সাথে অন্য ভাষার সংমিশ্রণ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, ডাবলিন আওয়ামীলীগের সদস্য প্রবীর সরকার, টিপু সুলতান রুয়েল, সুজন কুন্ডু , তানভীর ইসলাম , খাইরুল ইসলাম পায়েল , আয়ারল্যান্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ.আর নয়ন সহ অন্যান্যরা।





[ সংবাদটি পড়া হয়েছে : 5537 বার ]



বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের সংবাদ