“একজন অধ:পতিত মুক্তিযোদ্ধা ও এক হাইব্রিড নেতার কান্ড”



প্রিয় ভাই ও বোনেরা,,

আপনারা সবাই জানেন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে গত ২৫ শে ডিসেম্বর এ তাফসীরুল কোরান মাহফিল নামে দুটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একটি অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিল আয়ারল্যান্ড জামায়েত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, যদিও এরা কখনোই স্বীকার করে না কিন্তু আয়ারল্যান্ডে এরা চিহ্নিত।ওপর একটি অংশে ছিল আয়ারল্যান্ডের ধর্মপ্রাণ মানুষজন।

আমরা এখানে জামায়েত ইসলামীর অনুষ্ঠানটির-ই মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। এই দলটি বাংলাদেশে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের সময় এখানে রাজাকার সাঈদীর মুক্তির জন্য সাঈদী মুক্তিপরিষদ গঠন করেন। মূলত সেখান থেকেই আয়ারল্যান্ডে তারা সবাই চিহ্নিত।


আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন জামায়াতি ও যুদ্ধপরাধীদের ইউরোপে ইসলামিক ফোরাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন ছিল।ধর্মীয় বিদ্বেষ ও জঙ্গিবাদ সহ অন্যান্য অভিযোগের কারণে এই সংগঠনটিকে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয়। এই ইসলামিক ফোরামের একটি শাখা ছিল আয়ারল্যান্ডে যা নিষিদ্ধ হওয়ার পর আইএমসিসি নাম ধারণ করে। ধর্মীয় বাতাবরণে জামায়াতি তৎপরতা চালানোই জামায়েত ইসলামীর সাংগঠনিক কাজ।আয়ারল্যান্ডে এই চিহ্নিত গোষ্ঠীটি তাই আইএমসিসি সংগঠনের আড়ালে গত ২৫ শে ডিসেম্বর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সাথে এর একটি পোস্টার দেওয়া হলো।

পাঠকগণ লক্ষ্য করুন এই পোস্টারে প্রধান মেহমান "শায়খ তারেক নসরুল্লাহ"। যারা লন্ডনে থাকেন তারা জানবেন এই ব্যক্তি জামায়েত ইসলামীর একজন বড় পৃষ্ঠপোষক এবং যুদ্ধপরাধীদের বিচারের সময় তিনি বিচারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে কাজ করেছেন।


এরপর বিশেষ মেহমান হিসেবে রাখা হয়েছে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের ছোট একটি গ্রূপের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান।যিনি আয়ারল্যান্ডে আওয়ামীলীগের নামে প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বা যেকোনো অতিথি হিসেবে মঞ্চে বসেন অর্থাৎ দলীয় একজন কর্মী।আর মঞ্চে বসাটাই স্বাভাবিক কারণ তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মানিত ব্যক্তি ! এই ব্যক্তিটি বিতর্কিত হতে শুরু করল পোস্টারে নাম আসার পর থেকেই।আয়ারল্যান্ডের নানা রকম লোকজন ওখানে যেতে বারণ ও করলো। যখন পোস্টারে নাম এলো তিনি বেমুলাম তা এড়িয়ে গিয়ে অস্বীকার করলেন তিনি নাকি জানতেন-ই না যে পোস্টার-এ তার নাম এসেছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের কর্মীরা ঠিকই আচঁ করতে পেরেছিলো যে এই মুক্তিযোদ্ধা জামায়াতিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং ওনার মধ্যে আদর্শগত পরিবর্তন ও হয়েছে।


এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি যে জামায়াতিদের দ্বারা আয়োজিত তা ওনাকে অনেকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সকল অতীত ও আওয়ামী আদর্শ ভুলে ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে অন্যান্য জামায়াতি নেতা ও সাঈদী মুক্তি পরিষদের নেতাদের সাথে মঞ্চে উপবিষ্ট হলেন। সম্পূর্ণ আয়ারল্যান্ডে ওনাকে নিয়ে ছিঃ ছিঃ পরে গেলো। আয়ারল্যান্ডে আওয়ামীলীগের নিষ্ঠাবান কর্মীরা একজন মুক্তিযোদ্ধার অধঃপতন দেখলো।


আশ্চর্জনক ব্যাপার হলেও সত্যি, আয়ারল্যান্ডে জনসাধারণের নিন্দা থেকে এই মুক্তিযোদ্ধা কে বাঁচানোর জন্য জামায়াতি নেতারা এগিয়ে এসেছেন।তারা বলতে থাকলেন এটা একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ওখানে গেলেই বা ক্ষতি কি হবে।

সাধারণ দৃষ্টিতে এটা তেমন কিছু না হলেও এর মাধ্যমে জামায়াতি চক্রটি যে মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহারের মাধ্যমে সকলের কাছে সংগঠনটির গ্রহণ যোগ্যতা আদায় করে নিলেন এই ব্যাপারটিকে অনেকেই বুঝতে পারলেন না। এখন তো তারা উঠতি প্রজন্ম কে বোঝাতে সক্ষম হবে আমাদের সংগঠনটি শুধু ধর্মীয় সংগঠন, এই দেখেন না একজন মুক্তিযোদ্ধা ও আমাদের অনুষ্ঠানটিতে এসেছেন। অর্থাৎ জনসাধারণকে প্রলুব্দ করার জন্য তারা ঠিক ভাবেই নব্য জামায়াতি আদর্শের মুক্তিযোদ্ধা কে ব্যবহার করলেন।


এটা আমাদেরকে স্বীকার করতেই হবে, তিনি আর আওয়ামী আদর্শের মানুষ নন। কারণ ওনার কাছে বিকল্প ছিল। একই দিনে আরেকটি অনুষ্ঠান হচ্ছিলো তিনি সেখানে যেতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি। তিনি গিয়ে সাঈদী মুক্তি পরিষদের সদস্যদের সাথে মঞ্চে বসলেন। লাল বৃত্তে সাইদুর রহমান ও পাশে সাঈদী মুক্তি পরিষদের সদস্য বৃন্দ। ছবিতে সাঈদী মুক্তি পরিষদের সাথে মঞ্চে উপবিষ্ট সাইদুর রহমান।

Image

এখন অনেকেই বলবেন তিনি বয়োঃবৃদ্ধ মানুষ, কিন্তু যেখানে নীতি ও আদর্শের ব্যাপার সেখানে তো বয়স কোনো বিষয় হতে পারে না। বরং বয়োবৃদ্ধ বলেই তার ওখানে যাওয়া ঠিক ছিল না কোনোমতেই, কারণ তিনি তো কম জানেন না বা কম দেখেন নি তার জীবনে। বহুভাবে বিতর্কিত এই মুক্তিযোদ্ধা এই বিষয়টিকে জামায়েতীদের মতো করে ধর্মীয় বাতাবরণ দিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই সকল জন সাধারণ সহ আওয়ামীলীগের আদর্শের অনুসারীদের কাছে এই ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি, উনি যেন কোনোভাবেই আর আওয়ামীলীগকে আর ব্যবহার করতে না পারেন। ওনাকে কেউ যদি সেই সুযোগ দেয় তাহলে বুঝতে হবে তারাও আওয়ামীলীগের আদর্শের বাইরে গিয়ে দলকে ব্যবহারের জন্য কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে মাত্র।


আমরা আরো একটি ব্যাপার লক্ষ্য করলাম, আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের আঞ্চলিক একটি গ্ৰুপের নেতা ডাবলিন থেকে সুদূর কিলারনি গিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কেরি আওয়ামীলীগের একটি কমিটি গঠন করলেন। বিদ্রোহী দলকে শক্তিশালী করার জন্য আয়ারল্যান্ডে হঠাৎ নব্য লেখক ও গবেষক হওয়া এই ব্যক্তি বিভিন্নভাবে চৌদ্দ ঘাটের জল খাওয়া এক হাইব্রিড লোক কে কেরি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বানালেন।


কথিত আছে,( প্রমান সহ আছে ) এই হাইব্রিড লোক একসময় জাতীয় পার্টি, পরে আয়ারল্যান্ডে সাঈদী মুক্তি পরিষদ , পরে বিএনপি এবং সর্বশেষ আওয়ামীলীগে আসে এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ পায়। কিন্তু কয়লা ধুলেও তো ময়লা যায় না। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে আওয়ামীলীগ কে নিয়ে নানা রকম গালি-গালাজ ও অত্যন্ত নোংরা ভাষায় কর্মীদের আক্রমণ করে বসে। আওয়ামীলীগের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে , দলের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে যা হয় ঠিক সেই কাজটি-ই তিনি করেছেন।ছবিতে: বহুরূপী হাইব্রিড নেতা যিনি সর্বদল করে এখন আওয়ামীলীগের নেতা। আওয়ামীলীগের ব্যানারের নিচে ওনার পাশে বসা আওয়ামীলীগকে ধ্বংসকারী আওয়ামী নাম ধারী ব্যক্তিবর্গ।

Image

হয়তো অনেক কিছুই তিনি বা কেরী আওয়ামীলীগ নামে তার দ্বারা চালানো ফেস বুক আইডি থেকে বাদ দিয়েছেন কিন্তু সবাই জানে কেরী আওয়ামীলীগ নামে ফেস বুক আইডি থেকে সন্ত্রসী জাকির নায়েক হতে শুরু করে বিএনপি, রাজাকার কাদের মোল্লার পোস্ট, বাঁশের কেল্লার পোস্ট ইত্যাদি নানারকম পোস্ট তিনি করতেন ও লাইক দিতেন। তিনি কেরি আওয়ামীলীগ থেকে আওয়ামীলীগ বিরোধী পোস্ট দিতেন। অর্থাৎ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে প্রচার ও প্রপোগান্ডা ছড়াতেন।


বলা হয়, যে দল যেরকম তাদের নেতাও সেই ধরনের। এই দলের যিনি নেতা তিনি আরেক কাঠি সরেস। তাদের দলনেতা যিনি এক রাতের আঁধারে নব্য লেখক ও গবেষক হয়েছেন, কথিত আছে তিনি বাংলাদেশী ৩০০ টাকা দরে বাংলাদেশ থেকে লেখা কিনে আনেন এবং নিজের বলে চালিয়ে দেন। ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশ থেকে লেখা কিনে আনা এখন কোনো বিষয়-ই নয়। ব্যক্তি জীবনে তিনি কখনো বাংলাদেশে ইন্টারমিডিয়েট পাস করতে পারেন নি অথচ তিনি প্রচার চালাচ্ছেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। তিনি আদৌ কতটুকু কি পড়েছেন তার প্রমান পেয়ে যাবেন ওনার সাথে কথা বলা শুরু করলে। কারণ তিনি কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলেন এবং এটা তার স্বভাবজাত।


আমরা আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগের কর্মীরা ডাবলিন আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এই সকল আওয়ামী বিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সেই সাথে অবিলম্বে তাদেরকে বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছি।